আ ওয়ান্ডারল্যান্ড অফ ওয়ার্ডস - শশী থারুর
সুকান্ত বসু
এই লেখাটি ডাউনলোড করার জন্য উপরে ক্লিক করুন ☝️
আ ওয়ান্ডারল্যান্ড অফ ওয়ার্ডস, শশী থারুরের ২০২৪ সালে লেখা বই। ইংরেজি ভাষার অতলান্তিক জগতে বিভিন্ন শব্দের উৎপত্তির ইতিহাস, পৃথিবীর নানা দেশকালের সংস্কৃতির নিরিখে তার বহুমাত্রিক ব্যবহার নিয়ে ১০১টি প্রবন্ধের উপস্থাপনা এই বইতে। থারুরসুলভ খটমট ইংরেজি যা নিয়ে তার “অখ্যাতি”, এই বইতে তার নিয়ন্ত্রিত প্রভাব। মনে হয় সাধারণ পাঠকদের কথা ভেবে লিখেছেন। কিন্তু লেখক যেহেতু শশী থারুর, তাই হাতের কাছে অভিধান রাখা বাধ্যতামূলক। বইতে সরস রসিকতার আঙ্গিকে তথ্য ও গল্পের উপস্থাপনা। নির্ভার গতিশীল লেখা। তার বাজারচলতি ভাবমূর্তি নিয়েও রসিকতা করেছেন খোলা মনে, লিখেছেন – ‘A cleaver meme-maker put my tweet into the mouth of Captain Haddock, replacing his usual ‘billions of blue blistering barnacles’, while a taken back Tintin responds, ‘Captain, I told you to stay away from that Shashi Tharoor fella!’
তবে এই বইয়ের প্রবন্ধ পড়া শুরুর আগে, ভুমিকা পড়াটা খুব জরুরী। কারণ থারুর ইংরেজি শব্দ, ভাষা নিয়ে তার প্রচন্ড আবেগ এবং গভীর প্রণয়ের শুরুর ইতিহাসটা বিস্তারিতভাবে বলেছেন। ছেলেবেলা থেকে তার ইংরেজি শব্দপ্রেম তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া। তাই বইটির উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত পিতাকে – “In memory of my father Chandran Tharoor, the author’s author.” বইটির অসাধারণত্ব হল, ইংরেজি শব্দ যে কতরকম হতে পারে আর তার কতরকমের প্রয়োগ হতে পারে তা এই বইটা না পড়লে জানতে পারতাম না। শুধু তাই নয়, আমার মনে হয় ইংরেজি ভাষা নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছেন জানিনা তাদের মধ্যেও কয়জন মানুষ এর প্রশংসা করতে পারবেন। কারণ এটা কোনো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে হয় না। চাই সাহিত্যের রসাস্বাদন এবং তার ইতিহাস জানার গভীর আগ্রহ আর উৎসাহ। যে কারণে থারুর বলেছেন যে ছোটবেলা থেকে তার ইংরেজি শব্দের প্রতি গভীর অবিচল প্রেম। আর অসম্ভব রকমের বই পড়ার নেশা। শব্দ নিয়ে খেলা আর তার থেকে শব্দ প্রেম যার বীজ তাঁর বাবা তার মধ্যে বপন করেছিলেন। লোগোফাইল (Logophile), যার অর্থ শব্দপ্রেমী। সেই প্রেমের গভীরতা কারণে থারুরের নিজের কথায় এই বইটি লেখা – “This book is a testament of my intellectual curiosity and my desire to share a strong interest, particularly one related to words and wordplay, with others.” …..“I’ve often been accused of epeolatry, the worship of words, I usually pled that I am not guilty as charged, since I adore not for their own sake but because of the uses to which they can be put. True, I’m a logophile, a lover of words, but the best reason to know words is to read books – and the more books you read, the more words you’ll know!”
প্রবন্ধগুলি যেমন – ব্রিটিশ আর আমেরিকান ইংরেজির পার্থক্য, অস্ট্রেলিয়ান ইংরেজির নানা হাস্যকর উপমা, অন্যান্য ভাষা থেকে ধার করা শব্দ, যা ইংরেজি ভাষায় ব্যবহৃত হয়, যতিচিহ্নের (punctuation) ভুল ব্যবহারে বাক্যের অর্থ বদলে যাওয়া, অপ্রয়োজনীয় শব্দ, যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত শব্দ, নিষিদ্ধ শব্দ, বিশ্বের বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের দ্বারা সতর্কভাবে ব্যবহৃত শব্দ, যাকে “রাজনৈতিকভাবে সঠিক” বলা হয়ে থাকে এবং আরও নানা বিচিত্র বিষয়ে ব্যবহৃত শব্দের প্রয়োগ আর তাদের ইতিহাসের গল্প । নীচে তার কিছু নমুনা।
খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে পণ্ডিত এরিস্টোফানেস, আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগারের প্রধান গ্রন্থাগারিক, যিনি যতিচিহ্ন, ফুল স্টপ (.) এবং কোলন (:) উদ্ভাবন করেন | এস্কিমো ভাষাতে নাকি বিভিন্ন ধরণের বরফ আর তুষার চেনার জন্য ১৭টি আলাদা আলাদা শব্দ আছে| যদিও হিন্দিতে শুধু “বরফ” বলে তুষার বরফ দুই-ই বোঝানো হয়।
ভয় বা ফোবিয়া (Phobias) নিয়ে একটি অধ্যায়, যেখান থেকে কিছু অদ্ভুদ শব্দ জানা হল, ট্রিস্কাইডেকাফোবিয়া (triskaidekaphobia) – সংখ্যা ১৩ নিয়ে ভয়। অটোফোবিয়া (autophoobia) – এটি এক ধরনের মানসিক রোগ, যেখানে মানুষ একা থাকলে তীব্র উদ্বেগ বা আতঙ্ক অনুভব করেন। হিপ্পোপোটোমনস্ট্রোসেসকুইপেডালিওফোবিয়া (hippopotomonstrosesquipedaliophobia) – ৩৫ অক্ষরের দীর্ঘ শব্দ! যার অর্থ দীর্ঘ বা লম্বা শব্দের জন্য ভয়!
ভাষাগত যন্ত্রণা (liguistic affliction), অধ্যায়েতে বলা হয়েছে ভাষাজনিত অসুস্থতা নিয়ে! লেথোলজিকা (lethologica) – এমন একটা মানসিক অবস্থা যখন অত্যন্ত জানা শব্দ যা মনে পড়ছে না। মনে আসছে কিন্তু মুখে আসছে না। লেথোনোমিয়া (lethonomia) – সঠিক নাম মনে না করতে পারার অক্ষমতা । জিভের আগায় যেন এসে যাচ্ছে, কিন্তু মনে পড়ছে না। লোগানামনোসিস (loganamnosis) – যখন লেথোলজিকার কারণে জানা শব্দ না মনে করতে পারার থেকে হতাশা, তার থেকে পরবর্তী কথোপকথনে তার প্রভাব।
বই এবং বইপড়া (Books and Reading) নিয়ে একটা অধ্যায় আছে, যাতে কতরকমের চমকপ্রদ শব্দ হতে পারে তার কিছু নমুনা তুলে ধরছি : “সুন্দকু”(tsundoku) – একটি জাপানি শব্দ যার অর্থ হলো, যে একজন বই কিনেই চলছে কিন্তু পড়ছে না। চেয়ার, টেবিল, বিছানায় স্তূপীকৃত না-পড়া বই! “বুক-বসমড” (book-bosomed) – স্যার ওয়ালটার স্কট আবিষ্কৃত শব্দ যার অর্থ যে সবসময় নিজের সঙ্গে বই রাখে। বইয়ের প্রতি তার গভীর অনুরাগ। “লিব্রোকিউবিকুলারিস্ট” (librocubicularist) – যে বিছানায় শুয়ে বই পড়া পছন্দ করে । “বিব্লিওক্ল্যাসম” (biblioclasm) – যাকে আক্ষরিক অর্থে বলা হয়, বই, পাণ্ডুলিপি, পুঁথি, হস্তলিখিত পুস্তক, ইত্যাদি ধ্বংস করা। ছিঁড়ে বা পুড়িয়ে ফেলা। বইপ্রেমীদের কাছে এর আরও এক অর্থ হল, জেনে শুনে বইয়ের ক্ষতি করা। অনেকের অভ্যাস, বইয়ের যে পর্যন্ত পড়া হল সেই পাতার কোনা ভাঁজ করে রাখা । একে বলা হয় “Dogs’ Ear”। বইয়ের পাতা ভাঁজ না করে, তাদের উচিত বুকমার্ক ব্যবহার করা। “বিব্লিওস্মিয়া” (bibliosmia) – পুরোনো বইয়ের গন্ধ । পুরোনো বইয়ের দোকানে বইপ্রেমীরা এই সুবাস পছন্দ করেন। “সোয়াপশেম” (swapshame) – কথার অর্থ, একটি বই পড়া শুরু করে কিছু সময় পরে সেটা অসমাপ্ত রেখে অন্য একটি বই পড়া শুরু করা। “চ্যাপটিগ” (chaptigue) – সারারাত জেগে কোনো ভালোলাগা বই পড়া শেষ করার ফলে সকালে অনিদ্রাজনিত ক্লান্তি । “ওমনিলেজেন্ট” (omnilegent) – যার অর্থ, সবকিছু পড়ে ফেলার উচ্চাকাঙ্ক্ষা। “বিব্লিওবাইবুলি” (bibliobibuli) – অতিরিক্ত বই পড়ার নেশা । বলা যাই বইমদিরা পানে আসক্ত। “বিব্লিওফ্যাগিস্ট” (bibliophagist) – বইপোকা, যারা দ্রুত বই পড়া শেষ করে ফেলেন।
এইরকম আরও অসংখ্য লেখা যা এতটাই আকর্ষণীয়, যে সম্পূর্ণ মোহিত করে রাখে। Unputdownable, পড়তে শুরু করলে ছেড়ে ওঠা যায় না এমন। মনোযোগী পাঠক অনেক ইংরেজি শব্দের সঠিক ব্যবহার এবং খুব কম করে শ’দুয়েক অজানা ইংরেজি শব্দ জানতে পারবেন। ইতিহাস জানাটা উপরিপাওনা হবে। সব মিলিয়ে সংগ্রহযোগ্য বই।


